সর্বশেষ খবর
Home / বিনোদন / গল্পের নামঃ “বনলতার  শেষ কথা”

গল্পের নামঃ “বনলতার  শেষ কথা”

 

গল্পের নামঃ “বনলতার  শেষ কথা”

লেখকঃ মোঃ ওমর ফারুক

রামগড়, খাগড়াছড়ি।

১ম পার্ট
ক্লাস চলছে….
মাথা ঘুরিয়ে পাশের বেঞ্চে তাকিয়ে দেখি এক অপরূপ বালিকা মুখের মধ্যে কলম দিয়ে স্যারের ক্লাসে খুব মনযোগী। আমি একটিবারে জন্যেও তারে চোখের আড়াল হতে দিতে চাইনি কিন্তু কি করা! তবুও চোখকে ফাঁকি দিয়ে সে বাড়ি চলে গেল।
আমরা তো অনেকদিন একসাথে , জানিনা তবুও কেন তাকে এত ভালো লাগছে, কেন তাকিয়ে থাকতে ইচ্ছে করছে।
বনলতা তার নাম।
ছোট মুখটি সাথে পাতলা শরীরে তার সৌন্দর্যের বর্ণনা হয়তো আমি দিতে পারবোনা কিন্তু মনে হচ্ছে আমি তাকে ভালবাসি! হুম সত্যি তাকে আমি ভালবাসি।

ক্লাসের সাধাসিধে ছেলেটি আজ রোমান্টিকতা শিখছে, যেন মেয়েটির সাথে তার জনম জনম ধরে সম্পর্ক ছিল।

বুঝতে পারছিনা , বনলতা কি বুঝে গেছে? এই যে,আমি তাকে ফলো করছি। এখন আমাকে দেখলে লুকিয়ে যেতে চায়, হয়তো লজ্জা পাচ্ছে।
আমার বেস্টফ্রেন্ড রুপা…. দুনিয়ার সব কথা তার সাথে শেয়ার করি।
রুপাকে বললাম, দোস্ত! মেয়েটাকে তো আমার ভালো লাগেছে।
রুপা : কোন মেয়েটা?
আমি : ঐ যে বনলতা, চুপচাপ ক্লাসে বসে থাকে।
রুপা : কি! ক্যাম্পাসে কি তোর জন্যে মেয়ের অভাব পড়ছে? ফোন কাট
আমি : মানে কি? সবার চয়েস কি এক হয় নাকি?
এইবলে ফোন রেখে দিলাম।
নিজের বেস্টফ্রেন্ডের কাছে পাত্তা পেলাম না।

পুতুল নামের একটি ফ্রেন্ড ছিল। actually, তার নাম পুতুল না কিন্তু পুতুল বলেই ডাকি। বিশ্বাস করেন, পুুুতুল আর তার মাঝে কোন পার্থক্য নেই।
পুতুলকে গিয়ে বললাম,
পুতুল আমি তো একটি মেয়েকে ভালবেসে পেলছি।
পুুুতুল : Seriously? কি বল! মেয়েটা কে?
আমি : বলবো…. আগে বলো help করবা?
পুতুল : হুম, করবো । জনাব, দয়া করে বলবেন মেয়েটি কে?
আমি: বনলতা…তার ছোট ছোট দুটি চোখ, বাঁকা দুটি ঠোঁট অামাকে পাগল করে দিয়েছে।
পুতুল: তুমি পাগল হইছো? মেয়ে আর চোখে পড়েনা?
কি চয়েসরে বাবা!

বেস্টফ্রেন্ড রাজি না হওয়ায় মনে হয়েছে রুপা নিশ্চয় জেলাসফিল করছে অার তাই পাত্তা দেয়নি। কিন্তু পুতুল কেন avoid করে চলে গেল?
থাক আমার আর কারো সাহায্যের প্রয়োজন নেই।

নেহাকে হয়তো চিনবেন না কিন্তু একবার চিনে গেলে আর তাকে ভুলতে পারবেননা।
নেহা আমার কাছে আসলো , পাশে বসলো।
নেহা : কিরে তুই দেখি তেমন কথা বলিস না… কি হইছে তোর?
আমি: সব কিছু ওর সাথে শেয়ার করলাম। নেহা বললো,
আমি কিন্তু তোকে ওর নাম্বারটি নিয়ে দিতে পারি কিন্তু আমাকে কি খাওয়াবি?
আমি বললাম,
Sure, তুই যা বলবি তা খাওয়াবো।
নাম্বার দেওয়ার আগে ওরে খাওয়াতে নিয়ে যেতে চাইলাম কিন্তু নেহা রাজি হয়নি।

২য় পার্ট)

এভাবে কিছুদিন চলে গেল। ওহ! দুঃখিত আমার নামটিই বলা হয়নি, আমি ইনতেহান হোসেন রাফি।
এদিকে ক্যাম্পাস বন্ধ হয়ে যাবে কিন্তু এখনো বনলতার নাম্বারটি পেলামনা। নেহাকে গিয়ে বললাম, দোস্ত অাজ ক্যাম্পাস তো অফ হয়ে যাবে… তুই কি কিছু করলি?
নেহা: কোন বিষয়ে! ও আচ্ছা… অামিতো ভুলেই গেছি। এখন যাচ্ছি…
নেহা বনলতার কাছে গেল এবং দুজন ২ মিনিটও কথা বলেনি কিন্তু নাম্বার নিয়ে চলে আসলো।
নেহা নাম্বারটি আমাকে দিল। আমি বললাম তুই রাখবিনা?
নেহা: ওর নাম্বার দিয়ে আমি কি করবো? তোর জন্য আনছি তুই রাখ।
আমি : আচ্ছা, তুই ওরে কি বললি? মানে কি বলে নিলি?
নেহা: বলছি…. বনলতা আমি তোমার সাথে পড়বো এখন তুমি যদি তোমার নাম্বারটি দিতা তাহলে ভালো হত। তারপর দিয়ে দিল।
আমি: Thank you dost.
মন চেয়েছিল ওরে একটা পাপ্পি দিই কিন্তু সেটা লুকিয়ে মন থেকে দিয়ে দিয়েছি।
নেহা: ওরে পেয়ে আবার আমাকে ভুলে যাইছনা।
আমি : Impossible.

মেয়েটি(বনলতা) অনেক সহজ সরল, ওর মত মেয়ে জীবন সঙ্গী হলে একটা ছেলের আর কি চাই 💕

আজ ছুটি হওয়ার পর বনলতার বাড়ির রাস্তা পর্যন্ত হেটে হেটে যাই। আজ কিছুতেই তারে ছেড়ে যেতে মন চাইছেনা। অামি বুঝিনা, একটি মেয়ে কিভাবে এত সুন্দর করে হাসতে পারে! তার হাসিতে যেন মুক্তা ভাসে।

এখন রাত জাগি আর ডাইরিতে বনলতার ভালবাসা অংকন করি। মনের মধ্যে প্রচুর প্রেম সবটুকু কেবল লতাকে দেবো বলে…

বন্ধুরা সবাই মিলে আড্ডা দিচ্ছি, আমার শুধু ইচ্ছে জাগছে বনলতাকে একবার কল দিই কিন্তু সাহস পাচ্ছিনা। এভাবে আবার প্রেম হয় নাকি! আজ কথা বলবোই বলবো।
আর কিছু না ভেবে কল দিলাম।
😭😭😭
নাম্বাটি বন্ধ।
যদিও অনুভূতির তখন ১২টা বাজছিল তবুও confidence ছিল অনেক এই ভেবে যে, ফোন অন হবেই।
কখনো কোন মেয়েকে নিয়ে এতটা ভাবিনি যতটা এখন লতাকে নিয়ে ভাবি। রাত জেগে ডাইরি লিখি বলে মা খুব বকা দেয়।
মা: এত রাত পড়ার দরকার নেই… পরে অসুস্থ্য হয়ে যাবি।

উনিতো আর জানেনা আমি তার পুত্র বধুর কাহিনী লিখছি।
ও হ্যাঁ বলতে ভুলে গেছি….
বনলতার ফোনে কল ডুকলো এবং কথাও বললাম। লতা কিন্তু আমাকে দরতে পারেনি তারপর সে বললো আমি যদি পরিচয় না দিই তাহলে আর কল রিসিভ করবেনা।

আজ ১৫দিন রুপাকে একবারও কল দেওয়া হয়নি জানিনা আমার উপর ক্ষেপে আছে কি’না! সত্যি বলতে আমার মন ভালো নেই। বনলতাকে সবকিছু বললাম কিন্তু সে রাজি হয়নি।
রুপাকে কল দিলাম,
রুপা: কিরে তুই কি মরস নাই? (খুব চিৎকার দিয়ে বললো তাই চমকে উঠি)

আমি জানতাম ও এমন কিছুই বলবে।
আমি বললাম, সত্যি বলতে দোস্ত আমার ফোনটি নষ্ট ছিল৷ তুই বিশ্বাস কর… এই মাত্র ফোন ঠিক করে তোরে কল দিলাম। দু’জনে অনেকক্ষণ আড্ডা দিলাম, মজা করলাম তবুও মনটি ভালো হয়নি।

এই প্রথম কোন মেয়েকে প্রোপোজ করলাম আর তাতেই ব্যর্থ হয়ে একে একে মাথার চুলগুলো টানতে টানতে উঠিয়ে পেলছি।
বনলতাকে বললাম, এই ভালবাসার রাজ্যটি তো তোমার please এসে ঘুরে যাওনা, ভাল লাগলে থেকে যেও। তোমার প্রত্যেকটি স্বপ্নকে Take care করবো, শুদ্ধতা দেব, স্বপ্নকে প্রাণ দিয়ে বাস্তবে রূপান্তর করবো।
আর তার বিনিময়ে তুমি শুধু একটু ভালবাসা দিও…..
বনলতার মুখে একটাই কথা ছিল,
“আপনি আমার থেকে হাজার গুন ভাল মেয়ে পাবেন “।
আমিতো ওর থেকে ভাল মেয়ে চাইনা শুধু লতাকে চাই। কিছুতে লতাকে বুঝাতে পারছিনা তবুও বার বার চেষ্টা করছি বুঝানোর।

বনলতা আমার কথা শুনে একবার খুব হেসেছিল। আমি বলেছিলাম, আমি দিনে কাজে ব্যস্ত থাকবো তাই দুপুরের রান্নাটা তুমিই করবে আর রাতে আমি রান্না করবো। যদি দুপুরে রান্না করতেও কষ্ট হয় তাহলে দরকার নেই আমি হোটেল থেকে খাবার পাঠিয়ে দেব।

একটি মেয়েকে আর কিভাবে বুঝাতে হয়? আমিতো ছোট মানুষ, এর থেকে বেশি জানিনা। মনে মধ্যে খুব ডিপ্রেশন কাজ করছে কোন কিছুই ভালো লাগছেনা । এদেকি অনেকদিন পর ক্যাম্পাস খুললো আর আলেভীন ফোন দিচ্ছে তাড়াতাড়ি ক্যাম্পাসে যাওয়ার জন্য।
আলেভীন হচ্ছে আমার সেই বন্ধু যার কথা আমার বাকী সব বন্ধুদের বলেছি। আলেভীন নামটি যেমন সুন্দর ঠিক তেমনি ছেলেটিও অনেক সুন্দর মনের মানুষ। বলতে পারেন এই ক্যাম্পাসে আমার সবচেয়ে সেরা ফ্রেন্ডটির নাম আলেভীন।

৩য় পার্ট

বনলতা আমাকে বুঝাতে চেয়েছে তার জীবনে অনেক কষ্ট কিন্তু সে এটি ভাবেনি যে, তার এই কষ্ট মুছে দিতে আমি এসেছি।

আজ আলেভীনের সাথে অনেকক্ষণ আড্ডা দিলাম। বনলতার সব কথা বলার পর ও আমাকে টেনশন করতে মানা করে। যেকোন প্রকারে আমার আর লতার মাঝে রিলেশন করিয়ে ছাড়বে বলে প্রতিজ্ঞা করে। আমিও মহা খুশি।
আমার আর আলেভীনের মধ্যে সম্পর্ক ১২ বছরের বেশি। আমাদের ৬ষ্ঠ শ্রেণী থেকে বন্ধুত্ব হয় তবে বন্ধুত্ব বেশি প্রিয় হয় অষ্টম শ্রেণীতে পা রাখার পর। আজ এক যুগ পার হওয়ার পরও আমাদের বন্ধুত্বের একটুও কালো দাগ পড়েনি।

জানিনা কিভাবে বনলতার সাথে আলেভীন একটি সম্পর্ক তৈরি করে নিল। এখন ক্যাম্পাস শেষ হলেই দুজন এক সাথে হাটতে হাটতে চলে যায়। আমিও যাই তবে সব সময় না, মাঝে মধ্যে। একটি জিনিস খুব ভালো লাগে যে আমি বনলতার সাথে হাটছি যদিও আমার সাথে কোন কথা বলেনা। তাতে কি! আমি তো ভালবাসি।
দিনের সকল ব্যস্ততা শেষে যখন রাত তাঁর নিয়মে চলে আসে আমি তখন অধীর আকাঙ্খার সাথে অপেক্ষা করি এই বুঝি আলেভীন বনলতার ছবি পাঠালো, ভাবনা যখন স্বপ্নবনে গড়ে নতুন বাসা ঠিক তখন ছবি আসে বনলতার। কে আর পাঠাবে! আলেভীন ছাড়া অন্য কেউ হতেই পারেনা। এদেকি আমি লতাকে মেসেজ পাঠাচ্ছি অন্য দিকে আলেভীন। তবুও মেয়েটি বুঝতে পারছেনা কেন? পৃথিবীর সব ভালবাসা নিয়ে তোমার দরবারে হাজির হয়েছি, লতা।
লতা, তুমি যখন “পারবোনা ” বল বিশ্বাস কর আমার মনে হয় আমার মত হতভাগা বুঝি আর কেউ নেই।
আমিতো তোমার প্রেমের ভিখারি…. কেউ কি ভিখারিকে এভাবে অবহেলা করে?
আলেভীন আশ্বাস দিল, তুই হতাশ হতে পারবিনা আর কিছুদিন গেলে সব ঠিক হয়ে যাবে।

কারো সাথে কথা বলার মত মুড নেই তবুও হেসে যাচ্ছি অবিরত। মানুষ মনে হয় ছ্যাকা পাওয়ার পরও এত ভেঙ্গে পড়েনা যতটা আমি হয়েছি।

ক্লাসে স্যার accounting এর প্রবলেম গুলো সমাধান করে দিতে আসছে কিন্তু খাতা নিতেই ভুলে গেছি। দূর! আজকাল সবকিছু ভুলে যাই।
একটা প্রবাদ আছে “অভাগা যেদিকে যায় সাগরও শুকিয়ে যায়”। ঠিক তাই… প্রিয়া আমাকে নিয়ে মজা ছড়াচ্ছে। আমি ভিক্ষুক! খাতা চাচ্ছি সবার কাছে। সেদিন আমার এত খারাপ লেগেছিল যা কাউকে বলে বা লিখে বুঝানো যাবেনা। কেননা, প্রিয়া আমার সেই বন্ধু যাকে আমি কখনো তুই করে বলিনি তবে নাম ধরে ডাকি। যেমন : প্রিয়া..আপনি আজ পড়াগুলো নোট করেছেন?
প্রিয়াও আমাকে কখনো তুই করে বলেনি। উনি সব সময় আমাকে রাফি ভাই বলে ডাকতো। আমার বেস্ট ফ্রেন্ডের নামের তালিকা করলে প্রিয়ার নাম আপনা আপনি চলে আসবে। সবাই কি বনলতার মত আমাকে তাড়িয়ে দিচ্ছে! নাকি আমি নিজেই ভুল? কিছুদিন প্রিয়ার সাথে কথা বলিনি যদিও দোষ আমার। ছোট একটা সমস্যাকে বড় আকারে পরিণত করেছি। পরে বুঝতে পারি আমার ব্যবহারেও প্রিয়া অনেক কষ্ট পায়। প্রিয়ার কাছ থেকে সব রকমের সাহায্য পাবেন তবে প্রেমের ব্যাপারে শূন্য। জানিনা কেন সে প্রেম নামক শব্দটির সাথে আজো খুব বেশি অপরিচিত।

দিনের পর দিন বনলতা আর আমার মাঝে দূরত্ব বেড়ে চলেছে। তবে আমার বন্ধুর সাথে বন্ধুত্ব করতে কিন্তু ভুল করেনি লতা। আলেভীনের পরিচয় দিয়ে ফোনে বনলতার সাথে চুপি চুপি গল্প করতাম সে বুঝতেই পারতো না। আলেভীন আমার পাশে বসে মুখ চেপে দরে হাসতো আর আমি যেন স্বর্গে চলে যাই। বনলতা কিভাবে বুঝতে পারবে বলেন? এখন আমি যে রোমিও।
বড্ড বেহায়া মন বার বার ছুটে যায় বনলতার কাছে। আমি তাকে প্রতিদিন প্রপোজ করি আর সে আমাকে সুন্দর করে বুঝায় যে, আমি আপনার যোগ্য না please পরে কষ্ট পাবেন।
এভাবে আর কত? আমিতো ব্যর্থ প্রেমিক তবুও চেষ্টার কমতি রাখি নাই।

অনেকদিন পর আমাদের প্রাণের শহরে একটু ঘুরতে গেলাম। পরিক্ষা আর বনলতা এই দুই মিলে খুব ব্যস্ত সময় পার করেছি তাই নিজেকে ফিরে পেতে সুখের খোঁজে আসলাম। আসতে না অাসতে নোলকের সাথে দেখা, যাক ভালোই হল দুজন মিলে অনেক আড্ডা দেবো।
আমি নোলককে বললাম, কিরে নোলক আসার সময় আলেভীনকে নিয়ে আসতি অনেক মজা হত।
নোলক: ওর কথা আর বলিস না! আলেভীন এখন রোমিও। আমাদের ক্লাসের বনলতার সাথে রিলেশনে আছে।
আমি: না না না….. এমন কিছুই না। আরে ওরা অনেক ভালো বন্ধু। তুই ভুল করছিস।
নোলক: আলেভীনকে নিয়ে কিছু বললেই তোর জ্বলে আর এই জন্যেই তোরে বলতে চাইনা। আলেভীন তো অনেক সময় বনলতার বাসায়ও যায় তাছাড়া বনলতার মা আলেভীনকে অনেক পছন্দ করে। Even, আমার মনে হয় ওরা বিয়েও করবে।

নোলক আমাকে অনেক কিছুর প্রুভ দেখালো। তারপর আমার ভেতর থেকে আর কথা আসছেনা….. কোন রকম নোলককে অজুহাত দেখিয়ে বাড়ি পর্যন্ত আসলাম।
এরপর বুঝতেই পারছেন আমার কি অবস্থা 😭😭
চিৎকার করে কান্না করার মত আমার ঘরে সেই পরিবেশ নেই তবুও কাঁথা দিয়ে মাথা ডেকে নিজের মত করে কান্না করছি। মা বললেন, কিরে রাফি এই গরমে কাঁথা গায়ে দিলি কেন?
আমি: মা! ফ্যানের বাতাসে আমার ঠান্ডা লাগে তাই কাঁথা দিয়ে রাখছি।

বিশ্বাস করেন আমার রুমে দরজা ছিলনা যে, দরজা বন্ধ করে কান্না করবো। আলেভীন আমার সাথে এমনটা কেন করলো? এই সহজ সরল মেয়েটা আমাকে এভাবে ঠকালো!! সত্যি তো এটাই ছিল, আমি মেয়েটার যোগ্য ছিলাম না কিন্তু সব সময় বলতো ও আমার অযোগ্য। আমি ভাবতাম আলেভীন আর আমার বন্ধুত্ব দিন দিন অনেক গভীর হবে। আজ সেই গভীরে আমি ডুবে মরছি।
আলেভীন যদি আমাকে একবার বলতো, দোস্ত আমিও মেয়েটিকে পছন্দ করি তাহলে আমি কোনোদিনও ওদের মাঝে দেওয়াল হতাম না। আরে আমি যতটা মেয়েটাকে ভালবাসি তারচেয়ে আলেভীনকে বেশি ভালবাসি। আমার বন্ধুটি বুঝলোনা যে বনলতাকে না পেলে আমি কষ্ট পাবো ঠিক, কিন্তু আলেভীন যদি আমাকে কষ্ট দেয় তাহলে আমি মরেই যাবো। মেয়েটি আমাকে ঠোকিয়েছে তার জন্য আমি কান্না করিনি এবং করবোনা কেননা ওর সাথে আমার সম্পর্ক গড়ে উঠেনি। তাহলে শুধু শুধু মিথ্যে স্বপ্ন, আশা, ভরসা, বিশ্বাস কেন জাগিয়েছে? আবেগে পড়ে আলেভীনকে আমি খুব কাছের মানুষ মনে করতাম কিন্তু সে আমাকে অন্যসব বন্ধুর মত ক্লাসমেট মনে করতো, তার চেয়ে বেশি না।
১৮ দিন পর আমি ক্যাম্পাসে গেলাম। রিতা দাসের সাথে দেখা, কিরে রাফি আমিতো ভাবছি তুই মরে গেছিস! কোথায় ছিলি?

ওর প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার জন্য আমি প্রস্তুত ছিলাম না। ক্যাম্পাসে যত পা এগিয়ে যাচ্ছি আমার অজান্তেই চোখে পানি জমা হয়ে যাচ্ছে। খুব কষ্ট পাচ্ছি তাই সিদ্ধান্ত নিলাম যতদিন এখানে থাকবো পড়াশুনা হবেনা বরং কষ্ট পাবো বেশি তার থেকে অন্য কোন ক্যাম্পাসে চলে যাওয়াটাই উত্তম হবে।
আর কখনো আলেভীনের সাথে এক সাথে আড্ডা দেওয়া হবেনা ভাবতেই হৃদয় ভেঙ্গে খন্ড খন্ড হয়ে যাচ্ছে। তারপর এই শহরের কারো সাথে আমার আর যোগাযোগ হয়নি।

একদিন রাতে বনলতা আমাকে ম্যাসেজ দিল, ” আপনি যদি আমাকে বিন্দু পরিমান ভালবেসে থাকেন তাহলে আলেভীনকে ভুল বুঝবেন না, ওর আর মাঝে কিছুই ছিলনা। Please আলেভীনের সাথে কথা বলুন।”

যেখানে বিন্দুর কথা বলছো বনলতা, আজ তো সেখানে সাগর। আমার নিজেরই তো ঠাই নাই, আরেক জনকে ডুবাই কিভাবে?

আজ এই ক্যাম্পাস ছেড়ে চলে যাচ্ছি সত্য, কিন্তু যতদিন বেঁচে থাকবো আলেভীনকে আমি কখনো ভুলতে পারবোনা। তার প্রতি আমার কোন রাগ, ঘৃণা কিছুই নেই। বিধির কাছে বলি…. আলেভীন তার জীবনে যতদূর যাবে যেন সফলতার সাথে যায়। সুখে ভরে যাক তার জীবন। আমি আর কখনো তার সামনাসামনি হতে পারবোনা, বন্ধু ছিল তো তাই কষ্টগুলো সইতে পারছিনা।

৬ বছর পরও চাকরির জন্য দৌড়াচ্ছি। আজ ইন্টারভিউ শেষ করে বাসায় এসে ডিম ভাজা খাচ্ছিলাম হটাৎ করে একটি ম্যাসেজ আসলো “আপনি কি আমাকে বদদোয়া দিচ্ছেন? ”
৫ মিনিটের মত ম্যাসেজটির দিকে তাকিয়ে আছি। খবর পেয়েছি বনলতার বিয়ে হয়ে গেছে এবং তার ফুটফুটে একটি বাচ্চাও আছে। এত ব্যস্ত সময়ে মধ্যে বনলতা আমাকে ম্যাসেজ করলো! প্রথমে তো বিশ্বাস করতে পারিনি তারপর রিপ্লাই দিলাম।

 বনলতার শেষ কথা  সাথে আমি বললাম ,

” কাউকে বদদোয়া দাওয়া, ঘৃণা করা, এড়িয়ে চলা, আবার কারো সাথে প্রতারণা করা এগুলো আমাকে দিয়ে হয়না লতা।”

লতা… সুখে থাকো সব সময় এই প্রার্থনা করি। আমিতো এই দোয়াও করি আলভীনে মত ফ্রেন্ড কারো জীবনে যেন না আসে। ওরা ভাবের কারিগর, কারো জীবন ফুটে উঠবার আগেই ছিড়ে ফেলে দেয়।

তবুও গভীর নিশিতে বনলতার চেয়ে আলভীনকেই বেশি মনে পড়ে, মিস করি।

 ” বনলতাকে ভালবেসেছি  ক্ষণে ক্ষণে

      বন্ধুকে ভালবেসেছি দু’নয়নে,

আমার ভাগ্যের সবটাই যেন ভুল

তাই থাকেনি কেউ হারিয়েছি  দু’কূল।”

 

                                                                                          সমাপ্ত 

শেয়ার করুন

About admin

01580-242555

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*