সর্বশেষ খবর
Home / পার্বত্য চট্টগ্রাম / রাজধানীতে পার্বত্য মেলা শুরু

রাজধানীতে পার্বত্য মেলা শুরু

নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীর সেগুনবাগিচায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি প্রাঙ্গণে শুরু হয়েছে চার দিনব্যাপী পঞ্চম পার্বত্য মেলা। ১১ ডিসেম্বর আন্তর্জাতিক পর্বত দিবস সামনে রেখে পার্বত্য চট্টগ্রামের ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর উৎপাদিত পণ্যসামগ্রীর প্রচার ও বিপণনের মাধ্যমে তাদের স্বনির্ভরতার লক্ষ্যে প্রতি বছরের মতো এবারও এ মেলার আয়োজন করা হয়েছে। পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে এ মেলা চলবে রোববার পর্যন্ত। সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত এ মেলা প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত চলবে। মেলা সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।

বৃহস্পতিবার বিকাল ৩টায় প্রধানমন্ত্রীর আন্তর্জাতিকবিষয়ক উপদেষ্টা ড. গওহর রিজভী প্রধান অতিথি হিসেবে এ মেলার উদ্বোধন করেন। পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রী বীর বাহাদুর উশৈসিংয়ের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন রাঙ্গামাটি আসনের এমপি দীপংকর তালুকদার, সংরক্ষিত আসনের এমপি বাসন্তী চাকমা, পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান নব বিক্রম কিশোর ত্রিপুরা, রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বৃষ কেতু চাকমা। স্বাগত বক্তব্য দেন পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মেসবাহুল ইসলাম।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ড. গওহর রিজভী বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের সঙ্গে আমার একটা ব্যক্তিগত এবং আধ্যাত্মিক সম্পর্ক রয়েছে। আমি যদিও ওই অঞ্চলে জন্ম হওয়ার সৌভাগ্য হয়নি, তবে পার্বত্য চট্টগ্রামের বাসিন্দা হিসেবে আমি নিজেকে দেখি। ওখানে আমি অনেক সময় কাটিয়েছে, ওই স্মৃতিগুলো আমি সব সময় স্মরণ করি। এ সময় তিনি চার দিনব্যাপী এ মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।
সভাপতির বক্তব্যে বীর বাহাদুর উশৈসিং বলেন, প্রতি বছরের ন্যায় এবারও অত্যন্ত ঝাঁকঝমকভাবে চার দিনব্যাপী পঞ্চম পার্বত্য মেলা অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে আজ। যেখানে পাবর্ত্য অঞ্চলের সাংস্কৃতিকে তুলে ধরার একটি ক্ষেত্র তৈরি হয়েছে। পাহাড়ি বাঙালির বিভিন্ন শ্রেণির অংশগ্রহণে এ মেলা আজ সাংস্কৃতির বৈচিত্র্যের মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে। তিনি বলেন, পার্বত্য অঞ্চলের লোকজ সংস্কৃতি আদান-প্রদানের ক্ষেত্রে এ মেলা একটি গুরুত্বপূর্ণ মিলনমেলা হিসেবে পার্বত্যবাসী ও সমতলের জনগণের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। এ মেলার মাধ্যমে পাবর্ত্য এলাকার উৎপাদিত বিভিন্ন ধরনের কৃষজ দ্রব্যাদি, বেত, বাঁশ, কাঠ ও ওলের সুতার মাধ্যমে তৈরিকৃত হস্তশিল্প, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর ঐতিহ্যবাহী নিজস্ব পোশাক ক্রয়-বিক্রয়ের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। তিনি আরও বলেন, মেলা কেন্দ্র করে পার্বত্য অঞ্চলের ক্ষুদ্র শিল্পের বিকাশ ঘটেছে, যার ফলে এ অঞ্চলের সাধারণ মানুষের আর্থিক সচ্ছলতা বৃদ্ধির পাশাপাশি ক্রয়ক্ষমতা বৃদ্ধি পেয়েছে। তাছাড়া পার্বত্য অঞ্চলের সঙ্গে সমতলের যোগাযোগের ক্ষেত্র তৈরি হয়েছে, দৃষ্টিভঙ্গি ইতিবাচক পরিবর্তন হয়েছে; পার্বত্য অঞ্চলের মানুষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ দিক বলে আমি মনে করি। মো. মেসবাহুল ইসলাম বলেন, ১১ ডিসেম্বর আন্তর্জাতিক পর্বত দিবস সামনে রেখে ২০১৬ সাল থেকে প্রতি বছর এ মেলাটি উদযাপন করে থাকি। তারই ধারাবাহিকতায় এবারও বিজয়ের মাসে এ মেলাটি উদযাপন করছি। আশা করি, অত্যন্ত প্রাণবন্ত হবে এ মেলা। পাহাড়ি এলাকার লোকজন তাদের পণ্যদ্রব্যাদি নিয়ে এখানে এসেছেন, তাদের এসব পণ্যদ্রব্যাদি মেলায় প্রদর্শিত হবে এবং বিক্রি হবে। এর মধ্যে দিয়ে পার্বত্য এলাকার উৎপাদিত যে সামগ্রী রয়েছে, তার একটি ব্যাপক প্রসার ঘটবে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে প্রধান অতিথি ড. গওহর রিজভী মেলার বিভিন্ন স্টল ঘুরে দেখেন। এ সময় পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রী বীর বাহাদুর উশৈসিংসহ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন। মেলার আয়োজকরা জানান, এবারের মেলায় ১০১টি স্টল রয়েছে। প্রতিদিন বিকাল ৫টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত থাকবে পার্বত্য অঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে রাঙ্গামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলার শিল্পীরা পাহাড়ের নান্দনিক ও ঐতিহ্যবাহী সংগীত, নৃত্য ইত্যাদি পরিবেশনা করবেন।

শেয়ার করুন

About admin

01580-242555

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*