সর্বশেষ খবর
Home / অপরাধ / আদর্শিক আন্দোলন নয়, সন্তু লারমারা পাহাড়ে শোষন-অত্যাচার চালাচ্ছে, রাষ্ট্রীয় হস্তক্ষেপ কামনা বৌদ্ধ ধর্মীয় গুরুদের

আদর্শিক আন্দোলন নয়, সন্তু লারমারা পাহাড়ে শোষন-অত্যাচার চালাচ্ছে, রাষ্ট্রীয় হস্তক্ষেপ কামনা বৌদ্ধ ধর্মীয় গুরুদের

মোঃ হাবিব আজম, রাঙামাটি

পার্বত্য চট্টগ্রামে আঞ্চলিক সশস্ত্র সন্ত্রাসী সংগঠন জেএসএস ও এর নেতা সন্তু লারমা পাহাড়ে আদর্শিক আন্দোলন নয় বরং পাহাড়ীদের উপর শোষন-অত্যাচার চালাচ্ছে, পাহাড়ে সন্ত্রাসী কর্মকান্ড পরিচালনা করছে দাবী করে রাঙামাটির বিলাইছড়ি উপজেলার ধুপশীল ধর্মপ্রিয় আন্তর্জাতিক বিদর্শন ভাবনা কেন্দ্র তথা বৌদ্ধ বিহারটি পিসিজেএসএস এর নেতা সন্তু লারমার সশস্ত্র গ্রুফের সদস্যরা আগুন দিয়ে পুঁড়িয়ে দিয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন বিহারটির প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ ড. এফ দীপংকর মহাথের (ধুতাঙ্গ ভান্তে)।

সোমবার (১৮মে) দুপুরে রাঙামাটি প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে এক সংবাদ সন্মেলনের মাধ্যমে এ তথ্য জানান তিনি।

দীপংকর মহাথের বলেন, গত ১৫মে শুক্রবার দিনগত রাতে সন্তু লারমার সন্ত্রাসীরা ধুপশীল ধর্মপ্রিয় আন্তর্জাতিক বিদর্শন ভাবনা কেন্দ্র তথা বৌদ্ধ বিহারটিতে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয়। এতে প্রায় দুই কোটি টাকার ক্ষয়-ক্ষতি হয়েছে।

অতীতে ঘটনার কথা উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, ২০১৬সালে জুরাছড়ি উপজেলার নির্বাণগুহা থেকে রাতের অন্ধকারে আমাকে স্থান ত্যাগ করার জন্য বাধ্য করা হয়। জেএসএস এর কেন্দ্রীয় নেতা ভিক্টর চাকমা প্রধান সেবক শুক্রসেন তঞ্চঙ্গ্যাকে আমার সঙ্গ ত্যাগ করার জন্য বাধ্য করে।

২০১৬সালের ১৮মার্চ বিলাইছড়িতে বৌদ্ধ মন্দির নির্মাণে বাধা প্রদান করে। ২০১৭সালের ১৯জানুয়ারী বিলাইছড়ি উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান এবং জেএসএস নেতা শুভ মঙ্গল চাকমা আমাদের ধর্মীয় সভা বাতিল করতে বাধ্য করে।
২০১৭সালের ২ডিসেম্বর বিলাইছড়ি উপজেলার ফারুয়া ইউনিয়নের বিহারে শসস্ত্র হামলা। এতে ১০-১২জন নিহত হন।

একই বছরের ১৭ডিসেম্বর বিহারের সেবক অপহরণ এবং দেড়মাস পর উদ্ধার। ২০১৮সালের পহেলা মার্চ বিলাইছড়ির ফারুয়া ইউনিয়নের বিহারে গুলিবর্ষণ। একই বছরের ২০মার্চ বিহারে আবারো সশস্ত্র হামলা। হামলায় ৫-৬জন আহত হয়। ২১মার্চ নদী পথে ফারুয়া যাওয়ার সময় উলুছড়িতে সেবক সংঘ এবং ভিক্ষু সংঘের উপর গুলিবর্ষণ। এতে শিশুসহ ১০জন গুলিবিদ্ধ হয়।

একই বছরের তুফান তঞ্চঙ্গ্যা নামের একজনকে অপহরণ করা হয়। কারণ তার বাবা আমার একনিষ্ট সেবক ছিলেন।২০১৮সালে বিমল তঞ্চঙ্গ্যা নামের এক ব্যক্তিকে ফারুয়া ইউনিয়নের গোয়াইনছড়ি এলাকায় পিটিয়ে হত্যা করা হয়। ২০১৮সালের ১ ও ১১ ফেব্রুয়ারী ভক্তকুলের পানের ক্ষেত নষ্ট করে দেওয়া হয়।

২০১৮সালের ৬ফেব্রুয়ারী ফারুয়া বৌদ্ধ বিহারে ভক্ত নবীন চন্দ্র তঞ্চঙ্গ্যার বাড়িতে আগুন দেওয়া হয়। ২০১৯সালের ১০ ফেব্রুয়ারী জুরাছড়ি বৌদ্ধ বিহারের ভিক্ষু শ্রীমৎ ধর্মজিৎ ভিক্ষুকে অপহরণ করা হয় এবং ৪দিন পর আহত অবস্থায় উদ্ধার।

২০১৯সালের ফেব্রুয়ারী জুরাছড়ি আর্যচুগ বিহার থেকে বিক্ষু সংঘকে বিহার ত্যাগ করতে বাধ্য করা হয়। ২০১৯সালের ১৪ সেপ্টম্বর বিলাইছড়ির ফারুয়া ইউনিয়ন থেকে বিহার উঠিয়ে নেওয়ার জন্য হুমকি প্রদান করা হয়।

২০১৯সালের ২৮জুন বিলাইছড়ি উপজেলার চেয়ারম্যান বীরোত্তম তঞ্চঙ্গ্যা, ফারুঢা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বিদ্যালাল তঞ্চঙ্গ্যা এবং অন্যান্য জেএসএস নেতাকর্মীরা মিলে আমার বান্দরবানের ধুপশীল বিহারে ভক্তকুলদের সফর বাতিল করে।
এবং সর্বশেষ ২০২০সালের ১৫মে রাতের অন্ধকারে ধুপশীল বিহারটিকে আগুনে পুড়িয়ে দেওয়া হয়।

এইদিকে সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে দীপংকর মহাথের একান্ত সাক্ষাৎকার দিয়েছেন।
প্রশ্ন করা হয়েছিলো আপনি বাঙ্গালী বলে আপনার সাথে এমন ঘটনা ঘটছে কিনা এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, আপনার কথা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। হয়তো সেটা ১০০ভাগ সঠিক হতে পারে আবার না হতেও পারে। তবে মূল সমস্যা হলো- আমি অন্যায়ের প্রতিবাদ করি। সন্ত্রাসীরা কোন ধর্মের অনুসারী হতে পারে না। আমি সত্য কথা বলার কারণে আমার সাথে সন্তু লারমার এত দ্বন্ধ।

তিনি আরও বলেন, দেখেন রাঙামাটির শ্রদ্ধেয় বন ভান্তের সাথে সন্তু লারমার দ্বন্ধ ছিলো। সেটা আদর্শিক। কারণ বনভান্তে সন্তু লারমাকে পছন্দ করতেন না তার কর্মকান্ডের জন্য।

পার্বত্য ভিক্ষুর সাথে আপনার কোন দ্বন্ধ আছে কিনা এমন প্রশ্নে তিনি জানান, আমার সাথে কোন দ্বন্ধ নেই। আমার দ্বন্ধ হলো- ভাল আর খারাপের সাথে। যারা খারাপ তাদের আমি পরিহার করি আর যারা ভাল তাদের গ্রহণ করি। তিনি জানান, আমি সন্ত্রাসীদের হাত থেকে ধর্মীয় কেন্দ্রগুলো বাঁচাতে চাই। এজন্য প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করছি।

এসময় উপস্থিত ছিলেন, মাহানাম ভিক্ষু, মেগিউ ভিক্ষু, প্রজ্ঞামিত্র ভিক্ষু এবং জ্যেতিক্ষ ভিক্ষুসহ ভান্তের অন্যান্য অনুসারীরা উপস্থিত ছিলেন।

পরিশেষে ড. এফ দীপঙ্কর ভান্তে কর্তৃক উপস্থিত সকল সাংবাদিকদের মাধ্যমে, মাননীয় রাষ্ট্রপতি, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, মাননীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী, জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, সেনা প্রশাসন, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাবাহিনী এবং সকল সরকারি কর্মকর্তাদের মাধ্যমে, উক্ত ঘটনার পিছনে জড়িত সংশ্লিষ্ট সকল সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য অনুরোধ করেন।

শেয়ার করুন

About admin

01580-242555

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*