সর্বশেষ খবর
Home / খাগড়াছড়ি /  কাল ভয়াল বাঙ্গালী গণহত্যা দিবস, ৩২ বছর পরও বিচার পায়নি পার্বত্য বাসী।

 কাল ভয়াল বাঙ্গালী গণহত্যা দিবস, ৩২ বছর পরও বিচার পায়নি পার্বত্য বাসী।

 ইঞ্জিনিয়ার মো: আলকাছ আল মামুন ভূইঁয়া:

আগামী কাল সেই ভয়াল ২৯শে এপ্রিল , তাইন্দং, পানছড়ির অগ্নিকাণ্ড ও গণহত্যার শোকাবহ দিবস।

পার্বত্য চট্টগ্রামের ইতিহাসে একটি কলঙ্কিত দিন। পার্বত্য চট্টগ্রামে অধিকার বঞ্চিত বাঙ্গালী জনগোষ্ঠী পার্বত্য চট্টগ্রামে সরকার কতৃক চরমভাবে অবহেলিত ও সুবিধা বঞ্চিত, পশ্চিমা সমর্থনপুষ্ঠ এনজিও সমূহের একচোখা নীতি, সন্তু লারমা ও প্রসীত খীসাদের পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি (জেএসএস), ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ) ‘এর নিপিড়িত, নির্যাতিত ও বর্বরতম সন্ত্রাসের নির্মম ও অসহায় শিকার নির্যাতিত, নিপিড়িত, অধিকার বঞ্চিত, অসহায়, নিরীহ ও নিরস্র বাঙ্গালীরা আজও ভুলেনি খাগড়াছড়ি জেলার পানছড়ি, দিঘীনালা ও মাটিরাংগা উপজেলার সকল বাঙ্গালী গ্রামগুলোতে ২৯ এপ্রিলের সেই অগ্নিকাণ্ড ও গণহত্যার শোকাবহ দিনের কথা।

১৯৮৬ সালের এই দিনে খাগড়াছড়ি জেলার মাটিরাঙ্গার তাইন্দং, দিঘীনালা এবং পানছড়িতে বসবাসরত বাঙালির জীবনে নেমে আসে নৃশংস, বীভৎস, ভয়ঙ্কর ও বিভীষিকাময় এক কালরাত্রি।

রাত ৯টা ১৫ মিনিটে সকল উপজেলায় একই সময়ে বর্বর শান্তি বাহিনী নিরস্ত্র নিরিহ শান্তিপ্রিয় বাঙালির উপর হিংস্র দানবের মতো ঝাঁপিয়ে পড়েছিল। সেদিন পার্বত্যবাসী প্রত্যক্ষ করেছিল পার্বত্য চট্টগ্রামের ইতিহাসের এক নৃশংস বর্বরতা।

ঘটনার ৩২ বছর অতিবাহিত হলেও কোন বিচার পায়নি স্বজনহারানো পরিবার গুলো। ঐ দিন রাত ১টা পর্যন্ত মোট ৪ঘন্টা ব্যাপী খাগড়াছড়ি জেলার সীমান্তবর্তী মাটিরাঙ্গা উপজেলার তাইন্দং,তবলছড়ি ইউপি, পানছড়ি উপজেলা‘র ১নং লোগাং ইউনিয়ন, ৩নং পানছড়ি সদর ইউনিয়ন ও ৪নং লতিবান ইউনিয়ন (বর্তমানে ৫নং উল্টাছড়ি ইউপি)‘র বাঙ্গালি গ্রামে অগ্নি সংযোগসহ নির্বাচারে গণহত্যা চালায়।

শিশু, কিশোর, নারী, পুরুষ, আবাল, বৃদ্ধা, বনিতা যাকে যেখানে পেয়েছে তাকে সেখানেই হত্যা করেছে সন্তু লারমার নেতৃত্বাধীন পার্বত্য চট্রগ্রাম জন সংহতি সমিতি (জেএসএস)‘র অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীরা।

তৎ সময়ে বে-সরকারী হিসাবে মাত্র ৪ঘন্টা সময়ে নিরস্ত্র ও নিরীহ ৮ শত ৫৩ জন বাঙ্গালীকে হত্যা করা হয়েছে, আহত করা হয়েছে প্রায় ৫শত জনকে, অপহরণ ও গুম করা হয়েছে আরো কয়েক হাজার বাঙ্গালীকে।

৬হাজার ২শত ৪০টি বাড়ি সম্পূর্ন ভাবে পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে। এতে গৃহহীন হয়ে পড়ে হাজার হাজার পরিবার।

সন্তু লারমার নেতৃত্বাধীন শান্তি বাহিনী‘র গেরিলা যোদ্ধারা সেই হামলায় এত গুলো মানুষকে হত্যা করতে একটি বুলেটও ব্যবহার করেনি।

হাত-পা বেঁধে লাঠি দিয়ে পিটিয়ে, দা দিয়ে নির্মমভাবে কুপিয়ে, জবাই করে, আগুনে পুড়িয়ে, শিশুদেরকে পায়ে ধরে গাছের সাথে বাড়ি দিয়ে, বেনেট ও অন্যান্য দেশি অস্র দিয়ে খোঁচিয়ে খোঁচিয়ে হত্যা করেছিল।

প্রতিটি লাশকেই বিকৃত করে সে দিন চরম অমানবিকতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিল তথাকথিত শান্তি (??) বাহিনীর সন্ত্রাসীরা। গণহত্যার ঘটনাটি যারা স্ব-চোখে দেখেছে বা বেঁচে যাওয়া কিছু কিছু সাক্ষী আজো বেঁচে আছে, কিন্তু ঘটনার কথা মনে পড়লে আজও তারা শিউরে উঠে।

আমি তার একজন কালের স্বাক্ষী, এই হত্যা কান্ডের মধ্যে দিয়ে নারকীয়তা সৃষ্টি করেছিলো ৩৮হাজার বাঙ্গালীর হত্যাকারী খুনি জনসংহতি সমিতি (জেএসএস) এর সশস্ত্র সংগঠন শান্তি বাহিনীর গেরিলা যোদ্ধারা ও উপজাতি সন্ত্রাসী হায়নারা।

যদিও কোন শহীদ পরিবার এখনও পুর্নবাসিত হয়নি। দেয়া হয়নি যথাযত ক্ষতিপূরণ। উল্টো হত্যাকারীদের দেয়া হয়েছে সরকারী চাকরি,টাকা পয়সা ,ঘড়বাড়ী এবং সারা জীবন ঘরে বসে বসে খাওয়ার রেশন।

মন্ত্রীর মর্যাদায় জাতীয় পতাকা বহন করা গাড়ী,ও বাড়ী।

এ যেন শহীদদের রক্তের সাথে বৈমানী।তিনটি উপজেলায় এক সাথে গণহত্যা পরিচালনা করে সন্তুরারমা পেলো পুরস্কার,আর লাল সবুজের পতাকার ইজ্জত রক্ষাকারী শহীদদের করা হল তিরস্কার!এটা মেনে নেয়া যায়?

খুনি সশস্ত্র উপজাতি সন্ত্রাসীদের শাস্থির লক্ষ্যে ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে তদন্ত কমিটি গঠন করে এখনই সন্ত্রাসীদের বিচার নিশ্চিত করা উচিৎ ।

এ গণহত্যা ছাড়াও পার্বত্য চট্টগ্রামের ভিবিন্ন অঞ্চলে উপজাতি এসব সন্ত্রাসীদের দ্বারা বিভিন্ন গণহত্যা সংঘটিত হয়।এসব গণহত্যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য গণহত্যা যেমনঃ ভূষণছড়ার ১৯৮৪ সালের গণহত্যা, লংগদু, পাকোয়া খালী ১৯৯৬ সালের ৯ সেপ্টেম্বার গণহত্যা,  ১৯৭৯ কাউখালি গণহত্যা,বেতছড়ি গণহত্যা,বানরাইবারী, বেলতলী, বেলছড়ি গণহত্যা,তাইন্দং, আচালং, গৌরাঙ্গ পাড়া, দেওয়ান বাজার, তবলছড়ি, বর্ণাল,  রামছিরা,  গোমতি গণহত্যা ,গোলকপতিমা ছড়া, মাইচ্যেছড়া, তারাবনছড়ি গণহত্যা, ভূষণছড়া গণহত্যা, পানছড়ি গণহত্যা, দিঘীনালা গণহত্যা, ২৯ এপ্রিল১৯৮৬, মাটিরাংগা গণহত্যা, কুমিল্লাটিলা,  শুকনাছড়ি, দেওয়ান বাজার, সিংহপাড়া, তাইন্দং গণহত্যা, দিঘীনালা গণহত্যা,২ জুলাই ১৯৮৬, ভাইবোন ছাড়া গণহত্যা, হিরাচর,  শ্রাবটতলী, খাগড়াছড়ি, পাবলাখালী গনহত্যা,লংগদু গনহত্যা১৯৮৯,নাইক্ষ্যাছড়ি গণহত্যা, মাল্যে গনহত্যা, লোগাং গনহত্যা, নানিয়ারচর গনহত্যা , জুরাইছড়ি গণহত্যা ইত্যাদি।

এ সব গণহত্যার মুল কারন হলো একটি জাতি গোষ্ঠী বা একটি সম্প্রদায়কে নির্মূল করণ প্রক্রিয়া।

সেহেতু উপজাতি এসব সন্ত্রাসী বাঙ্গালী নির্মূল করার লক্ষে এসব সাধারণ বাঙ্গালী হত্যা করেছিল৷ সেক্ষেত্রে এটি পার্বত্য বাঙ্গালী গণহত্যা দিবসের জাতীয় স্বীকৃতির দাবী রাখে।

লেখক: চেয়ারম্যান পার্বত্য নাগরিক পরিষদ ও প্রতিষ্টাতা: পার্বত্য বাঙ্গালী ছাত্রপরিষদ।

শেয়ার করুন

About

২ comments

  1. অালকাছ অাল মামুন ভূইঁয়া

    Beautiful

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*