সর্বশেষ খবর
Home / অপরাধ / রামগড় উপজেলা প্রকল্প কর্মকর্তার দূর্নীতির আধ্যপান্ত (১ম পর্ব)

রামগড় উপজেলা প্রকল্প কর্মকর্তার দূর্নীতির আধ্যপান্ত (১ম পর্ব)

 

নিউজ ডেস্কঃ

খগড়াছড়ির রামগড়ে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মোঃ রিয়াদ হোসেন কর্তৃক গত ২ বছর ধরে সরকারী বরাদ্ধকৃত ত্রাণের ঢেউটিন, ত্রান ও অসহায়দের জন্য সরকারী বিভিন্ন বরাদ্ধ আত্নসাতের অভযোগ উঠেছে।

জানা গেছে, রামগড় উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে ২০১৭ ও ২০১৮ সালে ভূমিধস, আগুনসহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক দূর্যোগে ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্তের পর ত্রাণ ও দূর্যোগ মন্ত্রানালয়ের অধীনে ছাড়কৃত ফরম পূরণ করে তাতে সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যান, কাউন্সিলর অথবা পৌর মেয়র ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার স্বাক্ষরসহ সুপারিশ প্রদানের পর স্থানীয় সংসদ সদস্য কর্তৃক স্বাক্ষর করে তা উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয়ে জমা দেয় ভূক্তভোগীরা।

কিন্তু গত ২ বছর ধরেই উক্ত আবেদনের প্রেক্ষিতে প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে কোন ধরণের ঢেউটিন বা অর্থ সহায়তা পায়নি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো।

ভূক্তভোগী মোঃ মোবারক হোসেন, হালিমা খাতুন, সাজেদা বেগম, মোঃ কোরবান আলীসহ কয়েকজনের সাথে কথা বলে জানা যায়, এ বিষয়ে বারবার প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয়ে যোগাযোগ করলে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা তাদের বলেছেন “আবেদন অনুযায়ী পুরোপুরি বরাদ্ধ আসেনি তাই এ বছর ঢেউটিন বিলি করা হবে না”। ভূক্তভোগীদের অভিযোগ এভাবে ২বছরেও কোন ঢেউটিন বা সরকারী অর্থ সহায়তা পাননি তারা। কিন্তু সম্প্রতি গত কয়েকদিন আগে হঠাৎ করে পিআইও অফিস থেকে নতুন বছরে আবেদনকৃতদের নতুন বরাদ্ধ হওয়া ১বান্ডেল করে ঢেউটিন ও নগদ ৩ হাজার টাকা বিতরণ করা হয়েছে।

ভূক্তভোগীদের প্রশ্ন ২০১৯ সালে আবেদনকৃতরা যদি নতুন বরাদ্ধ পায় তাহলে গত ২বছরের বরাদ্ধের ঢেউটিন ও নগদ অর্থ গেল কই?

বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, উপজেলায় পাহাড় ধস, নদী ভাঙন, বন্যাসহ দুস্থ-অসহায় মানুষের মাঝে বিতরণ ও বিভিন্ন দুর্যোগ মোকাবেলা করার জন্য ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর কয়েকদফায় বেশ কিছু ত্রানের সরঞ্জাম, শুকনো খাবার ও নগদ টাকা বরাদ্ধ দেয়। বরাদ্দকৃত অনুদানগুলো প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা রিয়াদ হোসেন বাজেট অনুযায়ী বিতরণ না করে সামান্য অংশ লোক দেখনো বিতরণ ও নিজের ইচ্ছে মতো নামে-বেনামে বিতরণ দেখিয়ে আত্মসাৎ করেছেন।

এছাড়া, কয়েকমাস আগে সরকারী বরাদ্ধকৃত ত্রানের চাল বিতরণের সময় গোড়াউনে দরজা লাগিয়ে ভিতরে বসে থেকে সাধরণ মানুষকে ওজনে কম দেয় সে, সংবাদ পেয়ে সাংবাদিকরা খোঁজ নিতে গেলে তাদের গোড়াউনে ডুকতে দেয়নি পিআইও রিয়াদ হোসেন।

কথিত আছে, পিআইও রিয়াদ হোসেন এসব সরকারী বরাদ্ধকে নয়-ছয় করে ও অসহায়দের জন্য সংসদ সদস্যের সুপারিশ’র বিপরীতে বরাদ্ধকৃত ত্রানের ঢেউটিন আত্নসাৎ করে অফিসার্স ক্লাবে বেশ কয়েকবার অফিসারদের নিয়ে পার্টিও করেছেন।

স্থানীয়রা মনে করছেন, একই উপজেলায় বেশ কয়েকবছর চাকুরির সুবাধে অনেকটাই প্রভাবশালী হয়ে উঠেছেন এই কর্মকর্তা, পিআইও রিয়াদ হোসেনের সাথে চলমান ৩জন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার রদবদল হলেও রিয়াদ হোসেনের একই অফিসে দীর্ঘদিনের চাকুরি করা নিয়েও জনমনে রয়েছে নানা প্রশ্ন।

অভিযোগের সত্যতা জানতে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) রিয়াদ হোসেনের সাথে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করে বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

(চলমান)

শেয়ার করুন

About admin

01580-242555

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*