সর্বশেষ খবর
Home / খাগড়াছড়ি / শিক্ষক নিয়োগ নিয়ে বিভ্রান্তি, কর্তৃপক্ষের দাবি নিয়ম মেনেই নিয়োগ!

শিক্ষক নিয়োগ নিয়ে বিভ্রান্তি, কর্তৃপক্ষের দাবি নিয়ম মেনেই নিয়োগ!

 

খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি:

গুইমারা উপজেলার জালিয়াপাড়া স্কয়ারের পাশে অবস্থিত হাফছড়ি উচ্চ বিদ্যালয়টি বাহির থেকে দেখতে নান্দনিক । বর্তমানে বিদ্যালয়টির ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা ৬৬৮ জন কিন্তু শ্রেনী কক্ষ রয়েছে মাত্র ৮টি। এর মাঝে কম্পিউটার রুম, বিজ্ঞানাগার, পাঠাগার নেই। ১৪ জন শিক্ষকের স্থলে অতিরিক্তসহ ১২ জন শিক্ষক রয়েছেন বর্তমানে। বিদ্যালয়টির এমপিও ভুক্তিকরন প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। কিন্তু ভবন না থাকলেও শিক্ষকদের মান সম্পন্ন পাঠদানের কারনে ক্রমেই বাড়ছে বিদ্যালয়টির ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা।

অবিভাবক ও পরিচালনা কমিটির সদস্য ছামেলী বেগম জানান, পহেলা মার্চ ১৯৯৮তে বর্তমান প্রধান শিক্ষক মোয়াজ্জেম হোসেন হাফছড়ি জুনিয়র উচ্চ বিদ্যালয়ে যোগদানের পর থেকে-নবম শ্রেণীর পাঠদানের অনুমোদন, শ্রেণীর একাডেমিক অনুমোদন, বিজ্ঞান, মানবিক ও বানিজ্য বিভাগের অনুমোদন সহ যথেষ্ট উন্নয়ন করেছেন। তিনি আশা করছেন অতি শ্রিগ্রই এমপিও ভুক্তিকরন টাও হয়ে যাবে। অভিভাবক নার্গিস বেগম জানান, হাফছড়ি উচ্চ বিদ্যালয়টির অবস্থান পূর্বের চেয়ে অনেক ভালো। তবে শ্রেনী কক্ষ ও শিক্ষদের সংকট কেঁটে গেলে আরো ভালো হবে বলে তিনি আশা করছেন।

পরিচালনা কমিটি সভাপতি ও হাফছড়ি ইউপি চেয়ারম্যান চাইথোয়াই চৌধুরী জানান, তিনি ও প্রধান শিক্ষক নানান স্থানে তদবির করেছেন। আশ্বাসের বানী পেয়েছেন। আশা করছেন দ্রæত সময়ের মধ্যে নিরসন হবে। তবে এর মাঝে শিক্ষক সংকট যেন বিরক্তি ও অভিভাবকদের অভিযোগের কারন হয়ে দাঁড়িয়েছে। এজন্য পরিচালনা কমিটির সভাপতি, সদস্যদের আলোচনা ও সম্মতিক্রমে নিবন্ধনকৃত দুইজন শিক্ষক নিয়োগের বিষয় চুড়ান্ত করে পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিয়ে দুইজন সহকারী শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। নিয়োগকালীন পরিচালনা কমিটি ও অভিভাবক সদস্যগন বিদ্যালয়ের জ্বরার্জীণ সমস্যা উল্লেখ করলে নবযোগদানকৃত শিক্ষকগন দুজনে স্ব-ইচ্ছায় ৫০ হাজার টাকা স্কুল ফান্ডে দিয়েছেন তবে তাদেও শর্ত ছিলো এমপিও ভুক্তিকরণ সহজের লক্ষে পূর্বের বছরের তারিখে নিয়োগ দেওয়া । মূলত টাকাগুলো কোন ব্যক্তিকে দেওয়া হয়নি। বর্তমানে বিদ্যালয়টির পাঠদানের মান পূর্বের তুলনায় অনেক ভালো অবস্থায় রয়েছে। সমাজে শিক্ষাবিরোধী একটি কুচক্রি মহল বিদ্যালয়টির সুনাম নষ্টের পায়তারা করছে। সঠিক তথ্যে অবগত না হয়ে শিক্ষক নিয়োগে অনিয়ম হয়ছে বলে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। যার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান তিনি।

নিয়োগ প্রাপ্ত সহকারী শিক্ষক ফরিদ উদ্দিন ও সুলতানা খাতুন বলেন, ২০১৩ সাল থেকে তারা গুইমারা মডেলসহ বেশ কয়েকটি বিদ্যালয়ে অতিরিক্ত শিক্ষক হিসেবে ছিলেন। পরে হাফছড়ি উচ্চ বিদ্যালয়ে ২০১৬ তে নিয়োগ পরিক্ষায় অংশ গ্রহন করেন। পরিচালনা কমিটি নিয়োগপত্র দিয়েছে তবে বিদ্যালয়ের অর্থনৈতিক অবস্থা ভালো না থাকায় সাময়িক সময়ের জন্য নিয়োগ স্থগিত করেন। তাই এসময়ে তারা খন্ডকালীন শিক্ষক হিসেবে বিভিন্ন বিদ্যালয়ে কাজ করেন। ২০১৯ সালে বিদ্যালয়ের প্রয়োজনে আবার স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করায় আমরা রেগুলার হিসেবে যোগদান করেছি।ত বে বিদ্যালয়ের করুন অবস্থা দেখে নিজ ইচ্ছায় বিদ্যালয় ফান্ডে রশিদের মাধ্যমে দুজনে পঞ্চাশ হাজার টাকা প্রদান করেছেন এটা সত্য।

এবিষয়ে হাফছড়ি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোয়াজ্জেম হোসের বলেন, স্কুলের বিভিন্ন খাতের আয়কৃত টাকা আদায়কারীগন রশিদের মাধ্যমে ব্যাংকে জমা করেন। পরিচালনা কমিটিসহ যৌথভাবে হিসেব দেখা হয়। অতিরিক্ত কোন টাকা নেওয়া হয়নি এবং ভবিষ্যতে ও হবেনা । সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরিচালনা কমিটির এখতিয়ার নিয়ম মেনেই দেওয়া হয়েছে। পরিচালনা কমিটির ব্যক্তিরা এই এলাকার সন্তান।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার জিল্লুর রহমান আনম জানান, এ বিষয়ে তিনি ঘটনার সত্যতা খতিয়ে দেখবেন। তবে বিদ্যালয়টি অবস্থা পূর্বের চেয়ে ভালো আছে বলে তিনি জানেন।

About admin

01580-242555

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*