সর্বশেষ খবর
Home / খাগড়াছড়ি / খাগড়াছড়িতে বন্যার্তদের পাশে মানবতার ফেরিওয়ালারা!

খাগড়াছড়িতে বন্যার্তদের পাশে মানবতার ফেরিওয়ালারা!

 

খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি:

টানা ৬ দিনের ভারী বর্ষন, পাহাড়ী ঢল ও পাহাড় ধসের বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে খাগড়াছড়ির স্থানীয় বাসিন্দাদের জীবনযাত্রা। অবিরাম বৃষ্টিপাতের কারনে নতুন করে পাঁচটি গ্রাম প্লাবিত হওয়ায় সহস্রাধিক পরিবার পানি বন্ধি হয়ে পড়েছে। জেলার বিভিন্ন স্থানে অব্যাহত রয়েছে পাহাড় ধস। পৌর শহরের বিভিন্ন আশ্রয় কেন্দ্রগুলোতে প্রায় তিন শতাধিক পরিবার আশ্রয় নিয়েছে। শহরের শালবাগান এলাকায় পাহাড়ের পাদদেশে ঝুকিপূর্ণ ভাবে বসবাসকারী অর্ধ শতাধিক পরিবারকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নিয়েছে জেলা প্রশাসন। ইতি মধ্যে পৌরসভা ও জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাইকিং করে সচেতনতা বৃদ্ধির কার্যক্রমও চলছে পুরোদমে। বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে চেঙ্গী ও মাইনী নদীর পানি। এ অবস্থায় খাগড়াছড়ি জেলায় খোলা হয়েছে ৪৫টি আশ্রয় কেন্দ্র। গত ২৪ ঘন্টায় ৫৬.২৫ মিলি মিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে খাগড়াছড়ি সম্প্রসারণ বিভাগ। শহরের গঞ্জপাড়া, মেহেদীবাগ, মুসলিমপাড়া, বটতলী ও কালাডেবা এলাকার নিন্মাঞ্চল পানি নীচে তলিয়ে যাওয়ায় পানিবন্দি হয়ে পড়েছে স্থানীয় এসব এলাকার বাসিন্দারা।

ইতিমধ্যে অসহায় বন্যার্তদের পাশে খাবার নিয়ে দাঁড়িয়েছে সেনাবাহিনী, জেলা প্রশাসন, পৌর প্রশাসন ও পার্বত্য বাঙ্গলী ছাত্র পরিষদ। মঙ্গলবার (৯ জুলাই) রাত ৮ টায় খাগড়াছড়ি সদর উপজেলার উত্তর গঞ্জপাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আশ্রয় কেন্দ্রে উপস্থিত ৫৫০ জন পানিবন্দীদের মাঝে রান্না করা খাবার বিতরণ করেন খাগড়াছড়ি সদর জোনের (বিজয়ী বাইশ) উপ-অধিনায়ক মেজর মোঃ রেজাউল করিম। এরপর বুধবার (১০ জুলাই) দুপুর ২ টায় এবং রাত ৮ টায় খাগড়াছড়ি সদর উপজেলার হেডম্যানপাড়া মধুবাজার (ধর্মঘর), ঠাকুরছড়া উচ্চ বিদ্যালয় এবং চম্পাঘাট (নতুন বাজার) আশ্রয় কেন্দ্রে উপস্থিত ৩২০ জন পানিবন্দীদের মাঝে রান্না করা খাবার বিতরণ করেন খাগড়াছড়ি সদর জোনের সেনা সদস্যরা।

এদিকে একই দিন জেলার দীঘিনালা উপজেলার ১নং কবাখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, হাচিনসন পুর উচ্চ বিদ্যালয়সহ আশপাশের এলাকায় আশ্রয় কেন্দ্রে পানিবন্দীদের মাঝে রান্না করা খাবার ও ঔষধ বিতরণ করেন দীঘিনালা জোনের ক্যাপ্টেন শাহরিয়ার মাহমুদ শোভন। এসময় দীঘিনালা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ উল্লাহ, কবাখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. জাহাঙ্গীর হোসেন সহ অন্যান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

বৃহস্পতিবার (১১জুলাই) দুপুরে জেলা সদরের মুসলিম পাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, গোলাবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদ, শিশু সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ ১০ টি আশ্রয় কেন্দ্র পরিদর্শন করেছেন জেলা প্রশাসক মো. শহিদুল ইসলাম। এসময় পানিবন্দী পরিবারের খোঁজ খবর নেন। তুলে দেন শুকনা খাবারের পাশাপাশি খিঁচুড়ি। একইসাথে খাগড়াছড়ি জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর থেকে প্লাবিত হওয়া এলাকার লোকজনদের বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে ট্যাবলেট ও পানির জার দেয়া হয়েছে।

খাগড়াছড়ি ত্রান ও পূর্ণবাসন কর্মকর্তা মো: বাহার উল্লাহ্ জানান, বর্তমানে খাগড়াছড়ি সদর ও দীঘিনালা উপজেলায় মোট ১৭টি আশ্রয় কেন্দ্র খোলা আছে। যেখানে ২৯৫১জনের খাবারের ব্যবস্থা করছে খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসন। খাগড়াছড়ি সদর উপজেলায় কিছু কিছু জায়গায় পানি কমার কারনে ৪টি আশ্রয় কেন্দ্র বন্ধ করা হয়েছে।

এর আগে গত রাতে জেলা শহরের শিশু কল্যাণ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় আশ্রয় কেন্দ্র, বটতলা মিউনিসিপ্যাল আশ্রয় কেন্দ্র ও গঞ্জপাড়া আশ্রয় কেন্দ্রে অবস্থানরত প্রায় ৩ শতাধিক উপজাতি ও বাঙ্গালী পরিবারের মাঝে শুকনা খাবার ও খিচুড়ি বিতরণ করে পার্বত্য বাঙ্গালী ছাত্রপরিষদের নেতা-কর্মীরা। এসময় বাঙ্গালীদের পাশাপাশি উপজাতি নারীরাও খাবার পেয়ে সন্তোষ প্রকাশ করে পিবিসিপি নেতৃবৃন্দের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। খাগড়াছড়ি সদর উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান মোঃ আকতার হোসেন, পৌর প্যানেল মেয়র পরিমল দেবনাথ ছাড়াও এসময় পার্বত্য বাঙ্গালী ছাত্রপরিষদের জেলা সভাপতি আসাদুল্লাহ আসাদ, সাধারণ সম্পাদক শাহাদাৎ হোসেন কায়েশ, সহ-সাধারণ সম্পাদক মোঃ সাইফুল ইসলাম, মোঃ সোহেল রানাসহ নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসক মো: শহিদুল ইসলাম জানান, জেলা প্রশাসক মো. শহিদুল ইসলাম জানান, দুর্যোগ মোকাবেলায় জেলা প্রশাসন প্রস্তুত রয়েছে। পুরো জেলায় খোলা হয়েছে ৪৫টি আশ্রয় কেন্দ্র। দুর্যোগ মোকাবেলায় দুইশ মে:টন চাউল ও দুই লাখ টাকা বরাদ্ধ দেওয়া হয়েছে।

শেয়ার করুন

About admin

01580-242555

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*